Home > বিনোদন > রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতার অভিনন্দন

এর আগে যৌন নিপিড়নের কোন মৃত্যু নুসরাতের মতো করে নাড়া দিতে পারেনি দেশবাসীকে। নিজের প্রিয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে অধ্যক্ষের হাতে নিপিড়নের শিকার মেয়েটি ন্যায় বিচারের দাবিতে হাসপাতালের বিছানায় থেকেও নিজের সাথে হয়ে যাওয়া অন্যায়ের প্রতিবাদ করে গেছেন। এ জন্যই নুসরাত অন্য সবার থেকে আলাদা হতে পেরেছে। আইসিউতে থেকেও ছোট ভাইকে বলেছে, ‘রায়হান, আম্মা-আব্বার দিকে খেয়াল রাখিস। আমাকে নিয়ে চিন্তা করতে বারণ করিস। আমাকে যারা পুড়িয়ে দিলো তাদের যেন সঠিক বিচার হয়। না হলে আমি মরেও শান্তি পাবো না।’ নুসরাতের এই শেষ কথাই সারা দেশে যৌন নির্যাতনের নতুন প্রতিবাদ সৃষ্টি হয়েছে।

এই প্রতিবাদের সূত্র ধরেই নুসরাতের মামলা নিয়ে তৎপরতাও বেড়েছে। তারই অংশ হিসেবে ১৯ এপ্রিল শুক্রবার দুপুরে নুসরাতকে পুড়িয়ে মারার ঘটনায় সরাসরি অংশ নেয়া রিমান্ডে থাকা সহপাঠী কামরুন্নাহার ওরফে মণিকে নিয়ে ঘটনাস্থল ও বোরকার দোকান পরিদর্শন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

নুসরাত হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পিবিআইয়ের পরিদর্শক মো. শাহ আলম গণমাধ্যমকে বলেন, নুসরাত হত্যার ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার কামরুন্নাহার ওরফে মণিকে বুধবার পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদে দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার দুপুরে পিবিআইয়ের বিশেষ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইকবালের নেতৃত্বে একটি দল মণিকে নিয়ে সোনাগাজী পৌর শহরের মানিক মিয়া প্লাজায় একটি বোরকার দোকানে গিয়ে দোকান মালিকের সাথে কথা বলে। পরে পিবিআইয়ের দলটি সোনাগাজী মাদ্রাসার প্রশাসনিক ভবনের ছাদের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। সেখানে নুসরাতকে কীভাবে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে হত্যা করা হয়েছে, তার বিবরণ দেন মণি।

মো. শাহ আলম আরও বলেন, গ্রেফতার হওয়া মণির কাছ থেকে হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া পুরুষদের গায়ে থাকা বোরকাগুলো উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

প্রসঙ্গত, গত ৬ এপ্রিল সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় আলিম পরীক্ষার কেন্দ্রে গেলে মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে পালিয়ে যায় মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা। এর আগে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ-দৌলার বিরুদ্ধে করা যৌন হয়রানির মামলা প্রত্যাহারের জন্য নুসরাতকে চাপ দেয় তারা।

পরে আগুনে ঝলসে যাওয়া নুসরাতকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার চিকিৎসায় গঠিত হয় ৯ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড। সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নিচ্ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উন্নত চিকিৎসার জন্য নুসরাতকে সিঙ্গাপুরে পাঠানোরও পরামর্শ দেন তিনি। কিন্তু সবার প্রার্থনা-চেষ্টাকে বিফল করে বুধবার (১০ এপ্রিল) রাতে মারা যায় ‘প্রতিবাদী’ নুসরাত।

শেয়ার করুন :

নুসরাতের শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেয়ার লোমহর্ষক বর্ণনা দিলো মণি

প্রকাশের সময়ঃ ১১:২১ বিকাল

প্রকাশের তারিখঃ এপ্রিল ১৯, ২০১৯

এর আগে যৌন নিপিড়নের কোন মৃত্যু নুসরাতের মতো করে নাড়া দিতে পারেনি দেশবাসীকে। নিজের প্রিয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে অধ্যক্ষের হাতে নিপিড়নের শিকার মেয়েটি ন্যায় বিচারের দাবিতে হাসপাতালের বিছানায় থেকেও নিজের সাথে হয়ে যাওয়া অন্যায়ের প্রতিবাদ করে গেছেন। এ জন্যই নুসরাত অন্য সবার থেকে আলাদা হতে পেরেছে। আইসিউতে থেকেও ছোট ভাইকে বলেছে, ‘রায়হান, আম্মা-আব্বার দিকে খেয়াল রাখিস। আমাকে নিয়ে চিন্তা করতে বারণ করিস। আমাকে যারা পুড়িয়ে দিলো তাদের যেন সঠিক বিচার হয়। না হলে আমি মরেও শান্তি পাবো না।’ নুসরাতের এই শেষ কথাই সারা দেশে যৌন নির্যাতনের নতুন প্রতিবাদ সৃষ্টি হয়েছে।

এই প্রতিবাদের সূত্র ধরেই নুসরাতের মামলা নিয়ে তৎপরতাও বেড়েছে। তারই অংশ হিসেবে ১৯ এপ্রিল শুক্রবার দুপুরে নুসরাতকে পুড়িয়ে মারার ঘটনায় সরাসরি অংশ নেয়া রিমান্ডে থাকা সহপাঠী কামরুন্নাহার ওরফে মণিকে নিয়ে ঘটনাস্থল ও বোরকার দোকান পরিদর্শন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

নুসরাত হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পিবিআইয়ের পরিদর্শক মো. শাহ আলম গণমাধ্যমকে বলেন, নুসরাত হত্যার ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার কামরুন্নাহার ওরফে মণিকে বুধবার পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদে দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার দুপুরে পিবিআইয়ের বিশেষ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইকবালের নেতৃত্বে একটি দল মণিকে নিয়ে সোনাগাজী পৌর শহরের মানিক মিয়া প্লাজায় একটি বোরকার দোকানে গিয়ে দোকান মালিকের সাথে কথা বলে। পরে পিবিআইয়ের দলটি সোনাগাজী মাদ্রাসার প্রশাসনিক ভবনের ছাদের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। সেখানে নুসরাতকে কীভাবে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে হত্যা করা হয়েছে, তার বিবরণ দেন মণি।

মো. শাহ আলম আরও বলেন, গ্রেফতার হওয়া মণির কাছ থেকে হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া পুরুষদের গায়ে থাকা বোরকাগুলো উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

প্রসঙ্গত, গত ৬ এপ্রিল সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় আলিম পরীক্ষার কেন্দ্রে গেলে মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে পালিয়ে যায় মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা। এর আগে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ-দৌলার বিরুদ্ধে করা যৌন হয়রানির মামলা প্রত্যাহারের জন্য নুসরাতকে চাপ দেয় তারা।

পরে আগুনে ঝলসে যাওয়া নুসরাতকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার চিকিৎসায় গঠিত হয় ৯ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড। সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নিচ্ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উন্নত চিকিৎসার জন্য নুসরাতকে সিঙ্গাপুরে পাঠানোরও পরামর্শ দেন তিনি। কিন্তু সবার প্রার্থনা-চেষ্টাকে বিফল করে বুধবার (১০ এপ্রিল) রাতে মারা যায় ‘প্রতিবাদী’ নুসরাত।