Home > বিনোদন > রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতার অভিনন্দন

জেলার মির্জাপুরের বহুরিয়া ইউনিয়নের বহুরিয়া পূর্বপাড়া এলাকার এএনবি-২ ইটভাটার চিমনি থেকে বের হওয়া বিষাক্ত ধোঁয়ায় প্রায় ২০ একর জমির ধান নষ্ট হয়ে গেছে। একই কারণে ভাটাসংলগ্ন এলাকায় গাছ থেকে ছোট ছোট আম ঝরে যাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. তোফায়েল হোসেন ভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় কৃষকের প্রায় ৭/৮ লাখ টাকা মূল্যের ধান পুড়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন।এলাকাবাসী সূত্র জানায়, গত এক বছর আগে উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নের সোহাগপাড়া গ্রামের আব্দুর রহিম ও তার আত্মীয় গাজীপুরের কড্ডা এলাকার রেজাউল করিম মিলে বহুরিয়া গ্রামের পূর্বপাড়ায় আবাদি জমি উপর এএনবি-২ নামে একটি ইটভাটা স্থাপন করেন। ভাটার তিন দিকে আবাদী জমি ও একপাশে নদী ঘেরা ওই এলাকায় ৭/৮ একর আবাদী জমি ভাড়া নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমোদন ছাড়া ভাটাটি চালু করা হয়।এলাকাবাসী জানায়, গত ২৭ এপ্রিল সকাল এগারোটার দিকে এলাকাবাসী হঠাৎ গরম অনুভব করেন। অনেকে ঘর থেকে বের হয়ে গরমের সঙ্গে প্রচণ্ড দুর্গন্ধের কারণে বমি অনুভব করেন। তারা বুঝতে পারেন এএনবি-২ ইটভাটা থেকে বিষাক্ত ধোঁয়া ছেড়ে দেওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পরদিন সকালে এলাকাবাসী দেখেন তাদের ক্ষেতের ধানগাছের পাতা লালচে আকার ধারণ করেছে। এসব গাছ আস্তে আস্তে মরে যাচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিষাক্ত ধোঁয়ার কারণে ভাটার উত্তর পাশের প্রায় ২০ একর জমির ধানগাছের পাতা লালচে হয়ে মরে যাচ্ছে। ধানের ছড়া সাদা হয়ে যাচ্ছে। বহুরিয়া পূর্বপাড়া গ্রামের তারা মিয়া (৪০) রহম আলী, (৮০) করিম সিকদার (৫০) ঠান্ডু মিয়া (৭০) জানান, আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় এ বছর বোরোর আবাদ খুবই ভাল হয়েছিল। ১৫/২০ দিন পর ধান কাটাও শুরু হয়ে যাবে। কিন্ত গত ২৭ এপ্রিল বুধবার সকালে হঠাৎ ভাটার ধোঁয়া ছাড়লে পুরো এলাকার জমির ধান পুড়ে যায়।জেক্ট মালিক বাদশা সিকদার (৬০), জালাল উদ্দিন (৬০) ও জমির মালিক বাদশা খান, আতর আলী (৮০) জহিরুল ইসলাম (৩০) জানান, তাদের সারা বছরের আবাদ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় পরিবার পরিজন নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে। এ ছাড়া ভাটা আশপাশের বাড়ির গাছ থেকে আম ঝরে যাচ্ছে। গাছের পাতাও পুড়ে ঝরে যাচ্ছে।অভিযোগ রয়েছে ফসলী জমিতে অবৈধভাবে ইটভাটা চালু করারার পর ভাটা মালিক ওই এলাকার কৃষকদের নানাভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে পাশ্ববর্তী জমির মাটি কেটে নেয়া ও ধানক্ষেতের পাশের মাটি কেটে পুকুর তৈরি করে কৃষকদের নানাভাবে ক্ষতি করছেন। কেউ প্রতিবাদ করলে তাদের নানাভাবে হয়রানী করা হয়।

তারা পুড়ে যাওয়া ফসলের ক্ষতিপুরন ও তিন ফসলী জমির উপর স্থাপন করা ইটভাটা অপসারনের দাবি জানিয়েছেন প্রশাসনের কাছে।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ মশিউর রহমান জানান, খবর পেয়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়ে ছিলাম।উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্লক সুপারভাইজার তোফায়েল হোসেন বলেন, ইটভাটার ধোঁয়ায় ধানক্ষেত পুড়ে যাওয়ার খবর পেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতি নিরুপন করেছি। তিনি জানান, ইটভাটার ধোঁয়ায় ওই এলাকার প্রায় ১৬ একর জমির ফসল পুড়ে গেছে। যার আর্থিক ক্ষতির পরিমান ৭/ ৮ লাখ টাকা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এ বিষয়ে এএনবি-২ ইটভাটার মালিক আব্দুর রহিম ভাটার ধোঁয়ায় জমির ধান পুড়ে নষ্ট হওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, স্থানীয় চেয়ারম্যান, কৃষি কর্মকর্তা ও ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের নিয়ে আগামী রবিবার বৈঠক হবে। এর আগে ক্ষতিপুরন নির্ধারন করে ওই দিন তাদের ক্ষতিপুরন দেয়া হবে বলে তিনি জানান।মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল মালেক বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা ছিল না। ওই এলাকা পরিদর্শন করে ইটভাটার মালিকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়াসহ কৃষক যেন তাদের ক্ষতিপুরন পায় তার ব্যবস্থা করা হবে।’

শেয়ার করুন :

মির্জাপুরে ইটভাটার আগুনে পুড়ল ২০ একর জমির ধান

প্রকাশের সময়ঃ ৪:৪৯ বিকাল

প্রকাশের তারিখঃ মে ৫, ২০১৯

জেলার মির্জাপুরের বহুরিয়া ইউনিয়নের বহুরিয়া পূর্বপাড়া এলাকার এএনবি-২ ইটভাটার চিমনি থেকে বের হওয়া বিষাক্ত ধোঁয়ায় প্রায় ২০ একর জমির ধান নষ্ট হয়ে গেছে। একই কারণে ভাটাসংলগ্ন এলাকায় গাছ থেকে ছোট ছোট আম ঝরে যাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. তোফায়েল হোসেন ভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় কৃষকের প্রায় ৭/৮ লাখ টাকা মূল্যের ধান পুড়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন।এলাকাবাসী সূত্র জানায়, গত এক বছর আগে উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নের সোহাগপাড়া গ্রামের আব্দুর রহিম ও তার আত্মীয় গাজীপুরের কড্ডা এলাকার রেজাউল করিম মিলে বহুরিয়া গ্রামের পূর্বপাড়ায় আবাদি জমি উপর এএনবি-২ নামে একটি ইটভাটা স্থাপন করেন। ভাটার তিন দিকে আবাদী জমি ও একপাশে নদী ঘেরা ওই এলাকায় ৭/৮ একর আবাদী জমি ভাড়া নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমোদন ছাড়া ভাটাটি চালু করা হয়।এলাকাবাসী জানায়, গত ২৭ এপ্রিল সকাল এগারোটার দিকে এলাকাবাসী হঠাৎ গরম অনুভব করেন। অনেকে ঘর থেকে বের হয়ে গরমের সঙ্গে প্রচণ্ড দুর্গন্ধের কারণে বমি অনুভব করেন। তারা বুঝতে পারেন এএনবি-২ ইটভাটা থেকে বিষাক্ত ধোঁয়া ছেড়ে দেওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পরদিন সকালে এলাকাবাসী দেখেন তাদের ক্ষেতের ধানগাছের পাতা লালচে আকার ধারণ করেছে। এসব গাছ আস্তে আস্তে মরে যাচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিষাক্ত ধোঁয়ার কারণে ভাটার উত্তর পাশের প্রায় ২০ একর জমির ধানগাছের পাতা লালচে হয়ে মরে যাচ্ছে। ধানের ছড়া সাদা হয়ে যাচ্ছে। বহুরিয়া পূর্বপাড়া গ্রামের তারা মিয়া (৪০) রহম আলী, (৮০) করিম সিকদার (৫০) ঠান্ডু মিয়া (৭০) জানান, আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় এ বছর বোরোর আবাদ খুবই ভাল হয়েছিল। ১৫/২০ দিন পর ধান কাটাও শুরু হয়ে যাবে। কিন্ত গত ২৭ এপ্রিল বুধবার সকালে হঠাৎ ভাটার ধোঁয়া ছাড়লে পুরো এলাকার জমির ধান পুড়ে যায়।জেক্ট মালিক বাদশা সিকদার (৬০), জালাল উদ্দিন (৬০) ও জমির মালিক বাদশা খান, আতর আলী (৮০) জহিরুল ইসলাম (৩০) জানান, তাদের সারা বছরের আবাদ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় পরিবার পরিজন নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে। এ ছাড়া ভাটা আশপাশের বাড়ির গাছ থেকে আম ঝরে যাচ্ছে। গাছের পাতাও পুড়ে ঝরে যাচ্ছে।অভিযোগ রয়েছে ফসলী জমিতে অবৈধভাবে ইটভাটা চালু করারার পর ভাটা মালিক ওই এলাকার কৃষকদের নানাভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে পাশ্ববর্তী জমির মাটি কেটে নেয়া ও ধানক্ষেতের পাশের মাটি কেটে পুকুর তৈরি করে কৃষকদের নানাভাবে ক্ষতি করছেন। কেউ প্রতিবাদ করলে তাদের নানাভাবে হয়রানী করা হয়।

তারা পুড়ে যাওয়া ফসলের ক্ষতিপুরন ও তিন ফসলী জমির উপর স্থাপন করা ইটভাটা অপসারনের দাবি জানিয়েছেন প্রশাসনের কাছে।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ মশিউর রহমান জানান, খবর পেয়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়ে ছিলাম।উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্লক সুপারভাইজার তোফায়েল হোসেন বলেন, ইটভাটার ধোঁয়ায় ধানক্ষেত পুড়ে যাওয়ার খবর পেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতি নিরুপন করেছি। তিনি জানান, ইটভাটার ধোঁয়ায় ওই এলাকার প্রায় ১৬ একর জমির ফসল পুড়ে গেছে। যার আর্থিক ক্ষতির পরিমান ৭/ ৮ লাখ টাকা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এ বিষয়ে এএনবি-২ ইটভাটার মালিক আব্দুর রহিম ভাটার ধোঁয়ায় জমির ধান পুড়ে নষ্ট হওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, স্থানীয় চেয়ারম্যান, কৃষি কর্মকর্তা ও ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের নিয়ে আগামী রবিবার বৈঠক হবে। এর আগে ক্ষতিপুরন নির্ধারন করে ওই দিন তাদের ক্ষতিপুরন দেয়া হবে বলে তিনি জানান।মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল মালেক বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা ছিল না। ওই এলাকা পরিদর্শন করে ইটভাটার মালিকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়াসহ কৃষক যেন তাদের ক্ষতিপুরন পায় তার ব্যবস্থা করা হবে।’