আগামী ৭ এপ্রিল’১৮ শনিবার চট্টগ্রাম লালদীঘি ময়দানে অনুষ্ঠেয় সম্মিলিত জাতীয় জোট বৃহত্তর চট্টগ্রামের মহাসমাবেশ উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলন

চট্টগ্রাম

২৯ মার্চ-২০১৮, বৃহস্পতিবার, দুপুর-১২:৩০ মিনিট, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ,
প্রিয় সাংবাদিক ভাইয়েরা,
আপনারা জানেন, দুই জোট-মহাজোটের হিংসাত্মক ও ধ্বংসাত্মক অপরাজনীতিতে বর্তমানে দেশের মানুষ অতিষ্ঠ। সম্প্রতি বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার পর গত ২৩ মার্চ’১৮ প্রকাশিত হয় এক লজ্জাজনক সংবাদ-‘নব্য পঞ্চ স্বৈরতান্ত্রিক দেশের তালিকায় যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ’। তা আমাদের গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের জন্য একটি কলঙ্কজনক অধ্যায়। বর্তমানে দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের মহামারি রূপ ধারণ করেছে এবং শাসকগোষ্ঠির কতিপয় দুষ্টুচক্র মরণঘাতি মাদক ব্যবসায় জড়িত হয়ে দেশের সামাজিক কাঠামো নষ্ট করে দিচ্ছে। অন্যদিকে- তৈল, গ্যাস, বিদ্যুৎ, চাল, ডালসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের বারবার দামবৃদ্ধিতে দেশের সাধারণ জনগন অসহনীয় কষ্টে দিনাতিপাত করছে। তাছাড়াও সরকারী দলের অঙ্গ-সহযোগি সংগঠনের লাগামহীন হানাহানিতে দেশের শিক্ষাঙ্গনসহ সর্বত্র নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। তাই দেশের মানুষ এ পরিস্থিতি থেকে পরিবর্তন চাই, পরিবর্তনের জন্য সম্মিলিত জাতীয় জোটের বিকল্প নাই।

* জাতির বিবেক সাংবাদিক বন্ধুরা!
বর্তমানে দেশের অন্যতম রাজনৈতিক শক্তি সম্মিলিত জাতীয় জোট অপরাজনীতি থেকে দেশ-জাতিকে রক্ষা করতে দেশব্যাপি জনমত গঠনে কাজ করে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে গত ২৪ মার্চ ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। তারই ধারাবাহিকতায় আগামী ৭ এপ্রিল ২০১৮ শনিবার বিকাল ২টায় চট্টগ্রাম লালদীঘি ময়দানে সম্মিলিত জাতীয় জোটের উদ্যোগে মহাসমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে দেশ-জাতির উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখবেন, সম্মিলিত জাতীয় জোট ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান, সাবেক সফল রাষ্ট্রপতি পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। বক্তব্য রাখবেন, জাতীয় পার্টি, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টসহ জোটের শরীকদলসমূহের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

*সম্মানিত সাংবাদিকবৃন্দ!
দেশের অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি বন্দরনগরী চট্টগ্রাম বর্তমানে সবচেয়ে অবহেলিত ও বঞ্চিত জনপদ। চট্টগ্রামবাসীর জন্য সতর্ক সংকেত সামনে বর্ষা! দীর্ঘ ৫ (পাঁচ) বছর যাবত বন্দও নগরী চট্টগ্রাম কর্ণফুলীর জোয়ারে ভাসছে। এবারও তা থেকে উত্তোরণের কোন সম্ভাবনা দেখছি না। অন্যদিকে সরকারের একজন মাননীয় মন্ত্রীও চট্টগ্রামের রাস্তাঘাটের দূরাবস্তার কথা সম্প্রতি স্বীকার করেছেন। তাছাড়াও বিভিন্ন সেবাদানকারী সংস্থাসমূহের অসমন্বিত কার্যক্রম চট্টগ্রামকে দূষিত ও বাসঅযোগ্য করে তুলেছে। তাতে চট্টগ্রামবাসী হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে, ‘উন্নয়নের জোয়ারে নয়, কর্ণফুলীর জোয়ারে ভাসছে চট্টগ্রাম’। বিভীষিকাময় অবস্থা থেকে চট্টগ্রাবাসী পরিবর্তন চাই, তাই পরিবর্তনের জন্য ‘সম্মিলিত জাতীয় জোট’। এজন্য চট্টগ্রামবাসীর সতস্ফুর্ত অংশগ্রহণে ৭ এপ্রিলের মহাসমাবেশ হবে চট্টগ্রামের সর্বকালের সর্ববৃহৎ মহাসমাবেশ। আমরা দৃঢ় বিশ্বাস করি, ইনশাআল্লাহ এ মহাসমাবেশের মাধ্যমে জাতীয় রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আসবেই।

প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুরা,
শত ব্যস্ততার মাঝেও আমাদের সংবাদ সম্মেলনে সময় দেয়ার জন্য আপনাদেরকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। ইনশাআল্লাহ, ভবিষ্যতেও আপনাদের সার্বিক সহযোগিতা পাব এ-প্রত্যাশা করি এবং মহাসমাবেশ সফল করার জন্য আপনাদের মাধ্যমে প্রিন্ট-ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া, পুলিশ প্রশাসন, গোয়েন্দা সংস্থা, সিটি কর্পোরেশন, ওয়াসা, বিদ্যূৎ বিভাগসহ সেবাদানকারী সকল সংস্থা ও সর্বস্তরের জনতার সার্বিক সহযোগিতার কামনা করছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *