অপশক্তিকে পরাজিত করতে দুর্গার কাছে প্রার্থনার আহ্বান ফখরুলের

সমগ্র বাংলা

অপশক্তিকে পরাজিত করতে দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গার কাছে প্রার্থনা করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

১৬ অ‌ক্টোবর, মঙ্গলবার রাতে শারদীয় শুভেচ্ছার এক অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব এই আহ্বান জানান।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এই দিনে আমাদের সবার প্রার্থনা হোক, বাংলাদেশ থেকে অন্যায় চলে যাক, অত্যাচার চলে যাক, নির্যাতন চলে যাক। অসুর সে যত শক্তিশালী হোক তাকে অবশ্যই আমাদেরকে পরাজিত করতে হবে।’

‘আমরা অন্ধকার থেকে আলোয় যেতে চাই, আমরা মুক্ত বাংলাদেশ দেখতে চাই, আমরা সমৃদ্ধ-সম্মিলিত একটা বাংলাদেশ দেখতে চাই। আসুন আজকের এই পবিত্র দিনে আমাদের এই প্রার্থনা হোক- আমরা বাংলাদেশকে সত্যিকার অর্থেই গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ, একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ, শান্তিময় বাংলাদেশ যেন আমরা দেখতে পারি।’

দেবী দুর্গার আরাধনা অসুরের শক্তি বদের জন্যে উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘দেবী দুর্গার আরাধনা করা হয় শক্তির জন্যে। কোন শক্তি? অসুরের যে শক্তি তাকে বদ করবার জন্যে। অন্যায়, অত্যাচার, নির্যাতন-নিপীড়নের বিরুদ্ধে এই উপাসনা।’

‘সব সময় সত্যের পক্ষে, অসত্যের বিরুদ্ধে, ন্যায়ের পক্ষে অন্যায়ের বিরুদ্ধে এবং সব রকমের নির্যাতন-নিপীড়নের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গার আরাধনা এই সময়ে হয়ে থাকে। এটা সার্বজনীন বাংলাদেশে এই পূজা।’

বাংলাদেশে দুর্গা পূজার বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির যে বৈশিষ্ট্য -একই বৃন্তে দুইটি ফুল, হিন্দু-মুসলমান হাজার হাজার বছর ধরে এখানে বাস করছে একই বৃন্তে দুইটি ফুলের মতোই। আরও বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, দুর্গা পূজার সময়ে অপূর্ব মিলন মেলা ঘটে থাকে।’

এ সময় ঢাকেশ্বরী মন্দিরের জমি দখলমুক্ত করতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তৎকালীন ঢাকার মেয়র সাদেক হোসেন খোকার অবদানের কথা তুলে ধরেন বিএনপি মহাসচিব।

রাতে ঢাকেশ্বরী মন্দিরে মহানগর সার্বজনীন পূজা উদযাপন কমিটি ও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে এই শুভেচ্ছা অনুষ্ঠান হয়।

ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে এসে পৌঁছালে বিএনপি মহাসচিবসহ নেতৃবৃন্দকে শুভেচ্ছা জানান মহানগর পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি সুরেন্দ্র নাথ মজুমদারসহ অন্য নেতারা।

শুভেচ্ছা বক্তব্যের আগে মন্দির প্রাঙ্গণে দুর্গা প্রতিমার সামনে দাঁড়িয়ে পূজা অবলোকন করেন বিএনপি মহাসচিবসহ অন্য নেতারা।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ও হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের আহ্বায়ক গৌতম চক্রবর্তী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।

এই শুভেচ্ছা অনুষ্ঠানে দলের কেন্দ্রীয় নেতা আবদুল আলীম, জয়ন্ত কুমার কুন্ড, অমলেন্দ্র অপু, দেবাশীষ রায়, রমেশ দত্ত, আমিনুল ইসলাম, জুলফিকার মতিন, তরুন দে, জাসাসের হেলাল খান, শায়রুল কবীর খান উপস্থিত ছিলেন। পরে বিএনপি মহাসচিব বনানী মাঠে পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *