২০ দলের শরিকদের পর্যবেক্ষণে ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট’

রাজনীতি

একাদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সদ্য আত্মপ্রকাশ হওয়া নতুন জোট‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট’কে পর্যবেক্ষণ রেখেছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শরিকরা। বিএনপি, ঐক্য প্রক্রিয়া, নাগরিক ঐক্য ও জেএসডি নিয়ে গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে গণফোরাম নেতা ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট’ এর আত্মপ্রকাশ হয়।

আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বেশ কয়েক দিন ধরে এ নতুন জোট গঠনের প্রক্রিয়া চলছিল। এ জোটে বিকল্প ধারার যোগ দেয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তাদের দেখা যায়নি। বরং ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট’ঘোষণার পর বিকল্প ধারার পক্ষ থেকে পৃথক সংবাদ সম্মেলন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন,‘জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া সৃষ্টির লক্ষ্যে আমি স্পষ্ট বলেছি, আমাদের দুটি ব্যাপার আছে। ১ নম্বর ব্যাপার ছিল, যারা মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তি, আমরা শুধু তাদের সঙ্গে ঐক্য করব। যারা আমাদের মানচিত্রকে অস্বীকার করবে, আমাদের মা-বোনদের ত্যাগ স্বীকারকে অস্বীকার করবে, মুক্তিযুদ্ধের লাখ লাখ শহীদ-এ ইতিহাসকে যারা অশ্রদ্ধা করবে এবং এখন পর্যন্ত যারা বাংলাদেশের অস্তিত্বকে স্বীকার করবে না, তাদের বাদ দিয়ে আসার কথা বলা হয়েছিল।’

২ নম্বর শর্তের কথা উল্লেখ করে বি. চৌধুরী বলেন,‘আমরা একদলীয় শাসন দেখেছি। গণতন্ত্রে, তথাকথিত গণতন্ত্রে আমরা একদলীয় শাসন দেখেছি। গণতন্ত্রের কথা বলি, আসলে গণতন্ত্র নেই। তারপর দেখলাম জোটের সরকার হলো। চার দলের জোট, ১০ দলের জোট আরও কত কত সরকার। জোটের পর মহাজোট। ঠিক আছে। কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু সেখানে একটি দলের প্রাধান্য থাকে। তারপর সত্যিকার অর্থে জোটের যে সরকার ব্যালেন্স অব ডিফারেন্ট পার্টিস (বিভিন্ন দলের মধ্যে ভারসাম্য) সেটা নেই। একটি দলের প্রাধান্য থাকে। আজকে যে স্বেচ্ছাচারী সরকারের বিরুদ্ধে আমরা আন্দোলন করছি, তাতে নাকি ১৪টি দল আছে।’

এদিকে‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট’ নিয়ে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট নেতাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। জোট ঘোষণার কিছুক্ষণ আগে ২০ দলের অন্যতম শরিক বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বিকল্প ধারার প্রতি ইঙ্গিত করে একটি অনুষ্ঠানে বলেন,‘আমি প্রথম থেকে বলে আসছিলাম সময় খুবই কম। কাজটা খুবই কঠিন। এ কঠিন সময়ের মধ্যে ভাগাভাগির কতদূর সম্পন্ন হবে, দেশের মানুষের রাজনৈতিক যে চরিত্র সেটা দেখে আমার সন্দেহ হয়েছিল। জাতির সম্মুখে এলডিপির পক্ষ থেকে সন্দেহগুলো আমি পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করেছি।’

তিনি বলেন,‘অনেকে হয়তো সেদিন মনঃক্ষুণ্ন হয়েছিল, কষ্ট পেয়েছিল। কিন্তু সময় যত অতিবাহিত হবে তখন বুঝতে পারবে অলি আহমেদ সবাইকে হুঁশিয়ার করে দিয়েছিল। আজকে তার কথাগুলো অক্ষরে অক্ষরে সত্য প্রমাণিত হয়েছে।’

স্বাধীনতাবিরোধী রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে সরকারবিরোধী বৃহত্তর ঐক্যে বিকল্প ধারা যাবে না-তাদের এমন অবস্থানের জবাবে গত ২৮ সেপ্টেম্বর অলি বলেন,‘যত লোককে নিয়ে পারা যায় ঐক্যবদ্ধ হওয়া ভালো। ডা. বদরুদ্দোজা সাহেব যখন বিএনপির মহাসিচব ছিলেন তখন কিন্তু মসুলিম লীগের শাহ আজিজুর রহমান প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, জয়পুরহাটের আব্দুল আলীম যিনি সাজাপ্রাপ্ত তিনি রেলমন্ত্রী ছিলেন। এ ধরনের অনেকেই বিএনপিতে ছিল। বদরুদ্দোজা সাহেব তাদের মহাসচিব ছিলেন। তাহলে সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে কেন? মাংস হালাল আর ঝোল হারাম এটা কেন? মহাসচিব থাকা অবস্থায় সব রাজাকার ভালো ছিল আর যখন ক্ষমতায় নেই তখন তারাই রাজাকার তারাই দেশদ্রোহী এ ধরনের বক্তব্য ঠিক না। এবং বি. চৌধুরী সাহেব যখন রাষ্ট্রপতি ছিলেন তখন তো মুজাহিদ এবং নিজামী সাহেব মন্ত্রিসভার সদস্য ছিল, আমি তো সেদিন মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলাম না, বদরুদ্দোজা সাহেব তো রাষ্ট্রপতি ছিলেন।’

‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট’এবং বিকল্প ধারার পৃথক সংবাদ সম্মেলন নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে ২০ দলীয় জোটের শরিক ইসলামী ঐক্য জোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুর রাকিব জাগো নিউজকে বলেন, ‘ঐক্য প্রক্রিয়ার চক্রান্ত নিয়ে বিকল্পধারা যে মন্তব্য করেছে এতে মনে হয় আমরা যে উদ্দেশ্য নিয়ে বৃহত্তর ঐক্য করছি এটা তার পরিপন্থী।’

‘জনভিত্তি না থাকায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে ভাঙন’ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের এমন মন্তব্যে মাওলানা রাকিব বলেন, ‘এটা তাদের ইমোশনাল বক্তব্য। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন হওয়ায় তারা যে আতঙ্কিত হয়েছে এটা তারই বহির্প্রকাশ।’

২০ দলের আরেক শরিক বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান তার প্রতিক্রিয়ায় জাগো নিউজকে বলেন, ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে আমরা স্বাগত জানাই।’

বিকল্প ধারা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যারা জনগণের মূল স্রোতে না আসবে তারা আস্তাকুড়ে নিক্ষেপ হবে।’

বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির মহাসচিব এমএম আমিনুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ‘ঐক্য হয়েছে বিএনপির সঙ্গে। ভালো-মন্দ তারাই ভালো বলতে পারবে। আমরা ২০ দলীয় জোটে আছি। কিন্তু ঐক্য প্রক্রিয়ার সঙ্গে নেই। তাই ঐক্য নিয়ে এই মুহূর্তে কোনো মন্তব্য নেই। অপেক্ষা করুন সময়ই বলে দেবে ঐক্যের ভবিষ্যৎ।’

২০ দলীয় জোটের শরিক ন্যাপ বাংলাদেশের মহাসচিব এম গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া জাগো নিউজকে বলেন, ‘এখনই মন্তব্য নয়, পর্যবেক্ষণ করি, তারপর দেখা যাক।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *