‘জনসভা করে নৌকায় ভোট চেয়ে কোনো লাভ হবে না’

রাজনীতি

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, গতকাল ঠাকুরগাঁওয়ের জনসভায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বদনাম করে প্রধানমন্ত্রী তার উপকার করেছেন। এর মাধ্যমে তার ভোট অনেক বেড়ে গেছে।

শুক্রবার (৩০ মার্চ) জাতীয় প্রেসক্লাবে ডেমোক্রেটিক মুভমেন্ট আয়োজিত ন্যায় বিচার, গণতন্ত্র এবং বর্তমান বাংলাদেশ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

মওদুদ আহমদ বলেন, আপনি বিএনপি মহাসচিবের বিরুদ্ধে অনেক কথা বলেছেন। এটি আপনি আরো করতে থাকেন তাহলে ভালো হবে আমাদের। আপনি যত বদনাম করবেন তত মির্জা ফখরুলসহ বিএনপি নেতাদের জনপ্রিয়তা আরো বাড়বে, ভোট বাড়বে।

গতকাল ঠাকুরগাওয়ের জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সারাক্ষণ মিথ্য কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্যের সমালোচনা করে মওদুদ এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, যিনি সব সময় মিথ্যা কথা বলেন তিনি সবাইকে নিজের মত মনে করেন। তিনি ভাবেন অন্যরাও সব সময় মিথ্য বলেন। তবে তার এই বক্তব্যে মহাসচিবের অনেক উপকার হয়েছে, কারণ তার ভোট অনেক ভোট বেড়ে গেছে। আমরা চাই আপনি এটা আরো বেশি করেন তাহলে আমাদের ভোট অনেক বাড়বে।

তিনি আরো বলেন, আমরাতো প্রধানমন্ত্রীর সমকক্ষ নই, তারপরও তিনি আমাদের নিয়ে এমন মিথ্যাচার করেন। আসলে তিনি জানেন জনগণতো তাকে ভোট দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বানাননি। সে জন্য আমাদের মহাসচিব সহ দলের নেতাদের বিরুদ্ধেও মিথ্যচার করেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, মিথ্যাচার কাকে বলে সেটি বাংলাদেশে না আসলে কেউ বুঝতে পারবে না। বর্তমান সরাকর মিথ্যাচারের সব রেকর্ড অতিক্রম করেছে।

আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তারা চায় না দেশে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন হোক। সে জন্য তারা বিরোধী পক্ষকে কোনো গণতান্ত্রিক অধিকার পালন করতে দেয় না। কারণ আওয়ামী লীগ জানে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তারা আর ক্ষমতায় আসতে পারবে না, দেশের মানুষ তাদের আর ভোট দেবে না।

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, জনসভা করে নৌকায় ভোট চেয়ে কোনো লাভ হবে না। এটার একমাত্র টেস্ট কেস হচ্ছে অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন দিলে। তখন দেখা যাবে দেশের মানুষ নৌকায় কত ভোট দেয় আর ধানের শীষে কত ভোট দেয়। কারণ তারা জানে তাদের কোনো জনসমর্থন নেই তাই ভোট দিতে ভয় পায়।

খালেদা জিয়ার জামিনের বিষয়ে মওদুদ বলেন, ফাঁসির আাসমি জামিন পেলেও খালেদা জিয়ার জামিন বাতিল করেছে আপিল বিভাগ। এটি নজিরবিহীন। এ ধরনের মামলায় খালেদা জিয়া না হয়ে অন্য কেউ হলে আমি আপিল ফাইল করার সাথে সাথে বিনা প্রশ্নে জামিন দিয়ে দিত।

গোলটেবিল আলোচনায় আরো উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাংবাদিক শওকত মাহমুদ, গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফর উল্লাহ চৌধুরী, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মোহাম্মদ রহমতুল্লাহ, নিপুন রায় চৌধুরী, কল্যাণ পার্টির মহাসচিব আমিনুল ইসলাম, বাংলাদেশ ন্যাপের মহাসচিব গোলাম মোস্তোফা ভুইয়া, এলডিপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম এনডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মঞ্জুর হোসেন ঈসা প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *