ব্রিটিশ গণমাধ্যমে স্মিথদের নিয়ে নিন্দার ঝড়

ক্রিকেট খেলাধুলা

ক্রিকেটের আদি লগ্ন থেকেই ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ার সম্পর্কটা সাপে-নেউলে। দুই দেশের গণমাধ্যমের অবস্থানটাও ঠিক এরকম, একে অপরের পিছনে সারাক্ষণ লেগেই থাকে এই যেমন স্মিথ-ওয়ার্নারের বল টেম্পারিংয়ের ঘটনায় ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমের অবস্থান এমন যে মনে হচ্ছে যেন ইংল্যান্ড অ্যাশেজ সিরিজ জয় করেছে।

বল টেম্পারিংয়ের ঘটনায় এক বছরের জন্য ক্রিকেট থেকে নির্বাসিত হয়েছেন অজি অধিনায়ক স্মিথ। বৃহস্পতিবার সিডিনি বিমানবন্দরে নেমে সাংবাদিকদের মুখোমুখি

হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন অজি অধিনায়ক। ঘটনাটিকে উল্লেখ করে ব্রিটিশ মিডিয়া ‘ক্যাপ্টেন ক্রাই বেবি’ বলে স্মিথকে ট্রোল করে।

গোটা ক্রিকেট দুনিয়া মানছে স্মিথদের সাজা ঢের বেশি হয়েছে। অনেকে তাদের সহমর্মিতা জানাচ্ছে। সেখানে সমর্মিতা তো দূরে থাক উল্টো ‘কাঁটা গায়ে নুনের ছিটা’ দিচ্ছে ব্রিটিশরা।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘ডেইলি মেল’-এর স্পোটর্স পেজে স্মিথের কান্নায় ভেঙে পড়ার খবরটির শিরোনাম হিসেবে ব্যবহার করা হয় ‘ক্যাপ্টেন ক্রাইং বেবি’ শব্দগুচ্ছ। আরেক ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম ডেলি স্টার খবরটির শিরোনামে লিখেছে, ‘অজি চিটারদের কান্না ও লজ্জা’।

স্মিথদের নিয়ে ব্যাঙ্গ বিদ্রুপ করলেও ক্রিকেট জগতে ব্রিট্রিশদের খ্যাতি রয়েছে স্লেজিং ও বল-টেম্পারিংয়ের জন্য৷ ১৯৯৪ সালে লর্ডসে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ইংল্যান্ডের ক্যাপ্টেন মাইকেল আথারটন প্রথম বল টেম্পারিং করে টিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ে৷ এরপরও ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে একটি ম্যাচে বল বিকৃতির অভিযোগ ওঠে ইংরেজ পেসার স্টুয়ার্ট ব্রড ও জেমস অ্যান্ডারসনের বিরুদ্ধে৷ কিন্তু সেসব ভুলে স্বভাবসিদ্ধ ঔদ্ধত্যের পরিচয় দিয়ে স্মিথদের ট্রোল করতে শুরু করেছে ব্রিটিশ মিডিয়া৷ যদিও ব্রিটিশ মিডিয়ার এমন আক্রমণের পিছনে অ্যাশেজে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ইংল্যান্ডের হেরে যাওয়াকেও কারণ হিসেবে দেখছে অনেকে৷ ২০১৭ অ্যাসেজে ব্রিটিশদের গুড়িয়ে দিয়ে ৪-০ জয় নিশ্চিত করেছিল স্মিথের নেতৃত্বাধীন অস্ট্রেলিয়া দল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *