এবার তিন নাম্বার পজিশন নিয়ে মুখ খুললেন সাকিব

খেলাধুলা

পবিত্র হজ পালন শেষে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার কথা ছিল পরিবারের সঙ্গে ছুটি কাটাতে। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত বদলে একদিনের জন্য দেশে আসেন সাকিব। মূলত এশিয়া কাপে নিজের উপস্থিতির কথা জানা দিতেই তিনি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন। এরপর ফের পরিবারের কাছে ছুটে যান সাকিব। ছুটি শেষে যুক্তরাষ্ট্র থেকেই সরাসরি দলের সঙ্গে যোগ দেবেন দুবাইয়ে। এরই মাঝে দেশের প্রথমসারির অনলাইনকে মুঠোফোনে নাতিদীর্ঘ সাক্ষাৎকার দেন সাকিব। তাতে তিন নম্বরে খেলা ও আসন্ন এশিয়া কাপ নিয়ে কথা বলেন তিনি।

পাঠকদের জন্য সাক্ষাৎকারটির চুম্বক অংশ হুবহু তুলে ধরা হলো…

আপনি বলেছিলেন, আঙুলের কারণে ব্যাটিংয়েই মূলত সমস্যা হয়। কিন্তু এখন ব্যাটিংয়ে আপনার আরও বড় দায়িত্ব, তিন নম্বরে ব্যাট করছেন। লম্বা ইনিংস খেলতে হয় এখানে। সে জায়গায় কি একটু আপোস করা হলো?

সাকিব: আপোসের কিছু নেই। বললাম না, দলের প্রয়োজনই আমার কাছে সবকিছুর আগে। ওয়েস্ট ইন্ডিজে এই আঙুল নিয়ে খেলেও তো খারাপ করিনি (তিন ম্যাচে ৯৭, ৫৬ ও ৩৭)।

আগে যেটা বলেছিলাম যে, শতভাগ ফিট না হয়ে খেলতে চাই না, সেটা হলো আইডিয়ালি আপনি যা চান। অবশ্যই সবাই চাইবে শতভাগ ফিট হয়ে খেলতে, যেন দলকে শতভাগ দিতে পারে। আমিও সেটিই চাই। কিন্তু দলের চাওয়ার সঙ্গে নিজের চাওয়া মেলালে প্রয়োজনের ধরনটা অন্যরকম হতেই পারে।

ব্যাপারটা হলো আমার নিজের। আরেকটা সিরিজ কষ্ট করে, হয়তো ইনজেকশন নিয়ে খেলতে হবে। ব্যাটিংয়ে সেরকম প্রভাব আশা করি পড়বে না।

তিন নম্বরের প্রসঙ্গ যখন এলো, এই বছরের শুরুতে তিনে নামার পর থেকে তো আপনি দারুণ ধারাবাহিক। সাত ইনিংসে চারটি ফিফটি, একবার কেবল আউট হয়েছেন ৩৫-এর নিচে। শুরুটায় আপনি নিজে কতটা খুশি?

সাকিব: পারফরমারের তৃপ্তি বলে কিছু নেই। আর আমি ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স নিয়ে কখনো ভাবিও না। সবসময়ই বলে এসেছি, দলের জয়ে অবদান রাখতে পারলেই খুশি। সেটা যত রানই হোক, যে পজিশন থেকে হোক। তবে হ্যাঁ, তিন নম্বরে আমার চেয়ে ভালো তো মনে হয় আমাদের দলে আর কেউ করেনি!

তিন নম্বরে ৫টির বেশি ইনিংস খেলা ব্যাটসম্যানদের মধ্যে আপনার গড় (৪২.৪৪) বাংলাদেশের সর্বোচ্চ…

সাকিব: পরিসংখ্যান আমি দেখিনি, তবে ধারণা করছিলাম। এই তো, শুরুটা খারাপ হয়নি বলেই তো মনে হয়!

খারাপ হয়নি, কিন্তু আরও ভালোও হতে পারত হয়তো। তামিম ইকবাল আর আপনার রান-সেঞ্চুরির লড়াই নিয়ে অনেকবারই আপনি মজা করে বলেছেন যে পাঁচ-ছয়ে ব্যাট করে বড় ইনিংস খেলা কঠিন। তিনে নামার সিদ্ধান্ত নেয়ার পেছনে নিশ্চয়ই সেটির বড় ভূমিকা ছিল, বড় ইনিংস খেলা!

সাকিব: তিনে খেলার সিদ্ধান্ত আমার একার নয়। আমি চেয়েছি, এরপর অধিনায়ক, টিম ম্যানেজমেন্ট রাজী হয়েছে বলেই সম্ভব হয়েছে। বড় ইনিংস তো অবশ্যই খেলতে চাই, সেটা যেখানেই খেলি। ওয়েস্ট ইন্ডিজে যেমন সেঞ্চুরির খুব কাছে ছিলাম, আর ৩ রান হলেই বলতে পারতেন যে বড় ইনিংস খেলেছেন!

অবশ্য ক্রিকেটে ব্যাপারটাই এমন। ৯৯ হলেও সেঞ্চুরি নয়, সেঞ্চুরি তো সেঞ্চুরিই। দেখা যাক, শুরুটা খারাপ হয়নি, এটা একটা স্বস্তি। বড় ইনিংস নিশ্চয়ই আসবে।

দলে অবদানের কথা সবসময় বলেন, সেদিক থেকে ধারুণ হয়েছে অবশ্য। এবছর যে সাতটি ম্যাচে তিনে ব্যাট করলেন, তামিমের সঙ্গে জুটি ৭৮, ৯৯, ১০৬, ১০, ২০৭, ৯৭, ৮১। বাংলাদেশর বাস্তবতায় প্রায় অবিশ্বাস্য ধারাবাহিকতা… উইকেটে তামিমের সঙ্গে বোঝাপড়া ভালো বলেই কি এই সাফল্য?

সাকিব: এত বছর একসঙ্গে খেললে একটা বোঝাপড়া তো হয়ই। দুজনই হয়ত একে অপরের ব্যাটিংয়ের ধরণ ভালো বুঝি। আমরা এতদিন ধরে খেলছি, দল তো আমাদের কাছে এটুকু চাইতেই পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *