মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়ে হাইকোর্টের কোন রায় নেই: মওদুদ

রাজনীতি

হাইকোর্টের রায়ের কারণে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল করা সম্ভব নয় বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের পরদিন বিএনপি নেতা আইনজীবী মওদুদ আহমদ বলেছেন, এই ধরনের কোনো রায় আছে বলে তার মনে হয় না।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পরদিন শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে স্বাধীনতা ফোরাম আয়োজিত আলোচনায় বক্তব্য রাখছিলেন তিনি। বলেছেন, এই ধরনের রায় থাকলেও তা রিভিও করা যেতে পারে।

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনের মুখে গত ১১ এপ্রিল জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন কোটা থাকবে না। তবে গত ১২ জুলাই তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধা কোটা সংরক্ষণে আদালতের আদেশ আছে। এরপরও বাতিল হলে আদালত অবমাননা হবে।

মওদুদ আহমেদ বলেছেন, ‘মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়ে হাইকোর্টের নাকি একটা রায় আছে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়কমন্ত্রী বলেছেন। আমি যতদূর জানি হাইকোর্টে এ বিষয়ে কোনও রায় আছে বলে আমার মনে হয় না।’

‘তারপরও হাইকোর্টের যদি এ ধরনের কোনও রায় থাকে সেটা মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের ব্যাপারে আছে। নাতি নাতনিদের ব্যাপারে আছে বলে আমি মনে করি না। তারপরও বলব, প্রধানমন্ত্রী নিজের কথা রক্ষা করার জন্য, তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার জন্য সরকারই তো হাইকোর্টে গিয়ে সেটাকে এমেন্ড করতে পারে।’

‘যদি সরকার মনে করে হাইকোর্টের রায় হলো একমাত্র বাধা আর তাদের যদি প্রতিশ্রুতি পালন করতে এখনও রাজি থাকেন তাহলে রবিবার দিন সরকারের পক্ষ থেকে অ্যাটর্নি জেনারেল একটু কষ্ট করে যান এবং সোমবারে বিষয়টি লিস্টে আনেন তাহলে যদি রায়টাকে সংশোধন করে নেন বা রিভিউ করে নেন। কতো ধরনের পথ আছে। যদি নিয়ত ঠিক থাকে তাহলে এটাই করতেন।’

প্রধানমন্ত্রী বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি নেতা বলেন, ‘আসলে কথা দিয়ে কথা রাখেন নাই। একথা বাংলাদেশের মানুষ এবং আমাদের প্রজন্ম তারা এটাকে মনে রাখবে যে, বাংলাদেশের একজন প্রধানমন্ত্রী কথা দিয়ে কথা রাখেন নাই।’

‘এখন যেই কথা দিয়ে তিনি সরে যেতে চাইছেন সেই কথা মোটেও টেকসই নয়। যদি আপনারা সত্যিকার অর্থে প্রধানমন্ত্রীর কথায় কোটা প্রত্যাহার করে নিতে চান আর যদি বাধা থাকে হাইকোর্টে তাহলে সেই বাধা আপনারা অবশ্যই দূর করতে পারেন।’

কোটা আন্দোলনের নেতা রাশেদ খাঁনকে রিমান্ডে নেয়ারও সমালোচনা করেন মওদুদ আহমদ। বলেন, ‘রাশেদ ১০ দিনের রিমান্ডে। তার মা হাহাকার করছে। যে আমার ছেলেটাকে ফিরিয়ে দেন। মা তো মা-ই। প্রধানমন্ত্রীও তো একজন মা। সুতরাং কেন এই অত্যাচার নিপীড়ন। বরং কালকে বক্তৃতা শুনে একটু মর্মাহত হয়েছি। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন এদেরকে শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। এরা নাকি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে, আরেকজন তো বললেন, এরা নাকি জঙ্গি। শোনেন, এটাই হলো ফ্যাসিবাদ। এই মন মানসিকতাই হলো ফ্যাসিবাদ।’

‘আজকে এতো বড় এই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক দলের সম্পৃক্ততা নাই। এটা সরকার জানে। তারা চায় মেধার ভিত্তিতে চাকরিতে নিয়োগ হোক, তারা এতো কষ্ট করে লেখাপড়া করে, তাদের পিতা মাতারা বেশিরভাগই তো গরিব। জমি বিক্রি করে তাদেরকে লেখা পড়া করায়।’

‘তারা মেধাবী ছাত্র, তারা পরীক্ষায় পাস করে ফার্স্ট হয়। কিন্তু তারা কোটার জ্বালায় পড়ে তারা চাকরিটা পায় না। আজকে কতো বছর যাবত তারা এই ব্যথা বহন করছে। তার একটি বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে, এটা একটা স্বাভাবিক বহিঃপ্রকাশ। এখানে মুক্তিযুদ্ধ কিংবা মুক্তিযোদ্ধার ব্যাপারে কোনও বক্তব্য নাই। এটা হলো তাদের ন্যায্য কথা।’

‘ফার্স্ট হয়েছে কিন্তু কোটার কারণে চাকরি পায় নাই। সেই ছেলের ভবিষ্যৎ কী? তার পরিবার এতো বছর যাবত কষ্ট করে জমি বিক্রি করে লেখাপড়া করায় কি লাভ হলো? সবাই কি আমাদের মতো মধ্যবিত্ত ঢাকা শহরের?’

‘আজকে আপনারা ভাবতে পারেন আপনাদের কেউ ক্ষমতা থেকে সরাতে পারবে না। কিন্তু এটা ভাববেন না। এইটা ভাববেন না এজন্য সকলের ওপরে একজন মহাবিচারক সবকিছু দেখছেন। রাজনীতি একটি গতিশীল বিষয়, যেকোনো মুহূর্তে যেকোনো ঘটনা ঘটে যেতে পারে। আমরা মনে করি দেশের মানুষ প্রস্তুত হয়ে গেছে মাঠে নামার জন্য। এখন আরেকটু অপেক্ষা করতে হবে উপযুক্ত সময়ের জন্য।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *